বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এমন চিত্র উঠে আসার পর স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটিতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। তিনিই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। কলেজটির বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিনটি বিভাগ থাকলেও এবারের পরীক্ষায় শুধু মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। বাকি দুটি বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিলেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা বলরাম ওঝা, নির্মল বিশ্বাস ও শুভেন্দু সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানটির এমন করুণ অবস্থার জন্য পরিচালনা পর্ষদ, প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ শিক্ষকেরা দায়ী। এখানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহী নয়। কারণ, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নেই। এভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। তাই কলেজ শাখাটি বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে দুর্বাশুর আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৪ জন শিক্ষকই এমপিওভুক্ত এবং তাঁরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পান। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু করা হয়। তবে কলেজ শাখায় আলাদা পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ওই ১৪ জন শিক্ষক দিয়েই বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ স্বর্ণা রানী বিশ্বাস বলেন, ‘কলেজটি গ্রামাঞ্চলে হওয়ায় শিক্ষার্থী তেমন পাওয়া যায় না। এ কারণে শিক্ষকেরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাঁদের কোনো উৎসাহ নেই। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবছর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি। কিন্তু ভালো কিছু হচ্ছে না।’
প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বলেন, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় শিক্ষক ছিলেন। পরে এমপিওভুক্ত হতে না পেরে তাঁদের অনেকে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছেন। কলেজ শাখায় ভালো কিছু হচ্ছে না। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয় সংকট রয়েছে। তাই কলেজ শাখাটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, ‘আমি এক সপ্তাহ আগে সভাপতির দায়িত্বসংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি। এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোনো সভা করতে পারিনি। এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, তাঁদের দপ্তরের দায়িত্ব মূলত স্কুল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করা। কলেজ শাখার বিষয়টি তাঁদের দায়িত্বের আওতাভুক্ত নয়। ঢাকা অঞ্চলের একজন পরিচালক কলেজ বিভাগ দেখাশোনা করেন। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...