বিজ্ঞাপন
তাঁর অভিযোগ, প্রবাসে পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে স্ত্রী অন্য ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন। এ ছাড়া জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এই প্রবাসফেরত ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ঝালকাঠির রাজাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন হাফেজ মোস্তফা ফরাজী। তিনি মঠবাড়িয়া উপজেলার পাথরঘাটা জ্ঞানপাড়া এলাকার আব্দুল বারেক ফরাজীর ছেলে। বিয়ের পর রাজাপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোস্তফা জানান, দুবাইয়ে অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী জোলেখার কাছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন তিনি। এসব অর্থ রাজাপুর পূবালী ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেন মোস্তফা। ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করে তাঁর পাঠানো অর্থের প্রকৃত হিসাব বের করার দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, আংগারিয়া আলগি এলাকার মো. সাইফুলের সঙ্গে চলে যাওয়ার সময় স্ত্রী তাঁর পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।
মোস্তফার অভিযোগ, রাজাপুরে তাঁর ১৩ শতাংশ জমি ১২ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে কথাবার্তা হয়। জমির দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ১০ লাখ টাকা পান। এ নিয়ে বিরোধের জেরে স্ত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং মোহরানার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মোস্তফা। দীর্ঘদিন প্রবাসে পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ হারিয়ে বর্তমানে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা তাঁর প্রবাসে উপার্জিত অর্থ ও ব্যাংক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকানা ও দলিল যাচাই, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে মোস্তফার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁর স্ত্রী জোলেখা। তিনি বলেন, “আমি রাগ করে তাঁকে তালাক দিয়েছি। তবে সে আগে বিয়ে করেছে, পরে আমি বিয়ে করেছি। আমি তাঁর কোনো টাকা-পয়সা নিইনি।”
সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান তুলে ধরে মোস্তফা বলেন, “আমি প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চাই।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...