বিজ্ঞাপন
বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক ভবনে সরবরাহ করা পানির মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এমনকি বাইরে থেকে কিনে আনা পানিতেও দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে গিয়ে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
পানির সংকটের পাশাপাশি ভবনটিতে গ্যাস সরবরাহ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। বাসিন্দারা জানান, রান্নার সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল গ্যাসলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। একদিকে নিয়মিত গ্যাসলাইনের বিল পরিশোধ, অন্যদিকে সিলিন্ডার কেনার বাড়তি ব্যয়—সব মিলিয়ে আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন তাঁরা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভবনে নিজস্ব ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়ার্টার্সে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা নেই। ফলে বাসিন্দাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টারনেট সেবা নিতে হচ্ছে। ভবনটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের।
কোয়ার্টার্স শিক্ষক-কর্মকর্তা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ও সহকারী অধ্যাপক জিএম রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এখনো নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। এর আগে আমরা এসব সমস্যা সমাধানের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছিলাম। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেটর চালু করা হয়েছে। তবে বিশুদ্ধ পানিসহ বর্তমানে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত ও টেকসই সমাধান অত্যন্ত জরুরি।’
এদিকে, আবাসিক কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানির সংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানীর নজরে আনা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামাল হোসাইনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. জামাল হোসাইন জানান, আবাসিক ভবনে পানির টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট অনুমোদন হলেই দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হবে।
তবে বিশুদ্ধ পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও নিরাপত্তাসহ আবাসিক ভবনের সার্বিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...