বিজ্ঞাপন
সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসিফ আকবর এসব কথা বলেন। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও বর্তমান বোর্ড প্রশাসনের পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে তার অসন্তোষ ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রসঙ্গে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তারা বিপিএল সফলভাবে মাঠে নামিয়েছিলেন। অথচ বর্তমান বোর্ড পূর্ণ সময় পেয়েও তা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তার মতে, সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই এবার বিপিএল আয়োজন সম্ভব হয়নি।
সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে দেশের সবচেয়ে জমজমাট ক্রিকেট প্রতিযোগিতা বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও টুর্নামেন্টটি নিয়মিত মাঠে গড়িয়েছিল। তবে এবার আর্থিক লোকসান ও কাঠামোগত সংস্কারের যুক্তি দেখিয়ে টুর্নামেন্ট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিসিবির বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব। সভাপতির এমন সিদ্ধান্তের পরই বোর্ডের প্রশাসনিক অদক্ষতার অভিযোগ তুলে সমালোচনা শুরু করলেন সাবেক এই সংগঠক।
বক্তব্যে আসিফ আকবর কেবল বিপিএল স্থগিতের মধ্যেই নিজের সমালোচনা সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং বিসিবির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, ক্রিকেট উন্নয়নের প্রধান কেন্দ্র হওয়ার পরিবর্তে মিরপুরের বোর্ড কার্যালয় এখন আড্ডার স্থলে পরিণত হয়েছে। অতীতে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে টেন্ডার আহ্বানের আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হলেও বর্তমানে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক দরপত্র ছাড়াই কোটি কোটি টাকার তহবিল ব্যয় করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। ক্রিকেটীয় উন্নয়নের চেয়ে তথাকথিত সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজের পেছনে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আসিফ আকবর স্মরণ করিয়ে দেন যে, আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েনের একপর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট মারাত্মক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়েছিল। আরবিট্রেশন প্রক্রিয়ায় জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, অতীতে দেশের ক্রিকেটের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই তারা কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতা করেছিলেন। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী বিভিন্ন পর্ষদে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সমালোচনা করে ক্রীড়াঙ্গনকে সব ধরনের দলীয়করণের বাইরে রাখার জোর দাবি জানান তিনি।
উদ্বোধনী ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। নতুন ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মটি যেন কোনো রাজনৈতিক দলের তল্পিবাহক সংগঠনে রূপ না নেয়, আয়োজকদের প্রতি সেই সতর্কবার্তাও দেন আসিফ আকবর।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...