Logo Logo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ


Splash Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দেওয়া সিদ্ধান্ত অমান্য করে এক কৃষকের পৈতৃক জমি জবরদখল ও বিক্রির পাঁয়তারা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির প্রায় ৫ শতক কৃষিজমি অবৈধভাবে দখলে রাখা এবং তা সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর ছেলে মোক্তার হোসেন। একাধিক দফা সালিশ ও সরকারি সার্ভেয়ারের পরিমাপে জমি দখলের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া পূর্বপাড়ার ৯৮২ নম্বর দাগের পশ্চিম পাশে মোক্তার হোসেনের পিতা নুরুল ইসলামের ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৫ শতক আবাদি জমি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন একই এলাকার কবির মিয়া ও মুর্শিদ মিয়া। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মোক্তার হোসেন ১০ নম্বর রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান সেলিম উভয় পক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে শুনানির ডাক দিলেও বিবাদী পক্ষ তাতে সাড়া না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মোক্তার হোসেনকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছয় লাখ টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত হলেও বিবাদীরা তা অমান্য করে।

ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্তে কাজ না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইউএনও উভয় পক্ষকে উপস্থিত রেখে শুনানি শেষে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে নকশা ও ম্যাপ অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। সরকারি সার্ভেয়ার মো. ইসমাইল উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেন। পরিমাপে দেখা যায়, কবির মিয়ার দখলে থাকা ৯৮৩ নম্বর দাগে নির্ধারিত সীমানার অতিরিক্ত জমি রয়েছে এবং মোক্তার হোসেনের ৯৮২ নম্বর দাগে প্রায় ৫ শতক জমি কম রয়েছে।

সরকারি পরিমাপের মাধ্যমে জবরদখলের বিষয়টি সরাসরি প্রমাণিত হলেও জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় সালিশকারকরা জানান, সার্ভেয়ারের পরিমাপের পর জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও কবির ও মুর্শিদ জমি হস্তান্তর করেনি। উল্টো ভুক্তভোগী কৃষক নিজের প্রাপ্য জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও একাধিকবার মারধরের চেষ্টা চালায়। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এ বিষয়ে কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

এদিকে জমি দখলমুক্ত করার বদলে উল্টো হয়রানির অভিযোগ করে মোক্তার হোসেন জানান, প্রাপ্য জমি চাইতে যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে মামলাটি পুরোপুরি সাজানো ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। মোক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, বর্তমানে ইউএনওর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে কবির মিয়া ও মুর্শিদ মিয়া ওই বিরোধপূর্ণ কৃষিজমিসহ নিজেদের অংশ গোপনে বিক্রির চুক্তি করার চেষ্টা করছেন। কোনো নিরীহ ক্রেতা যেন বিতর্কিত এই জমি কিনে আর্থিক প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি জমিটি দ্রুত উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের কার্যকর সহায়তা কামনা করেছেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত কবির মিয়া দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়টি পূর্বেই আদালতের প্রক্রিয়ায় মীমাংসা হয়েছে। ইউএনও অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমান মৌসুমের ধান কাটা সম্পন্ন হলে পুনরায় মাপজোখ করে জমি নির্ধারণ করা হবে। নতুন করে পরিমাপে যদি তারা জমি পায়, তবে তা ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...