বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার পলাতক আসামি গোপালগঞ্জের তিন প্রভাবশালী সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েন তারা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে তাঁদের গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এম মনির আহমেদ (ননী), গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি শরীফ আমিনুল হক লাচ্চু এবং জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সুপারুল আলম (টিকে)। তাঁরা সবাই স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সক্রিয় ও শীর্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত রাজনৈতিক নাশকতা, হামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক মামলায় এই তিন নেতা এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই তাঁরা এলাকা ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপন করেন। তবে তাদের গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি চৌকস দল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল থানা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় মতিঝিল এলাকায় যৌথ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। ওই এলাকা থেকেই একে একে তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের গোপালগঞ্জ জেলা সদরে নিয়ে আসা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, "গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের একাধিক থানায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পরিচয় গোপন করে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন। যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।"
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে এবং নাশকতা মামলার অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...