বিজ্ঞাপন
অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশনের সদস্যদের মতে, যারা সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবার সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কথা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন অনুদান হিসেবে বিবেচিত হলেও তা সরকারই প্রদান করে এবং তাদের নির্দিষ্ট গ্রেড রয়েছে। ফলে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তাদের মূল বেতন বাড়বে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে তাদের বৈশাখী ও উৎসব ভাতার পরিমাণও বাড়বে। তবে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য থেকে যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীরা ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাবেন মূল বেতনের মাত্র ১৫ শতাংশ।
চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। বর্তমানে তারা মাসে মাত্র ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই ভাতা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এর বাইরে থাকছেন।
বেতন কাঠামোর অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টিফিন ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা শিক্ষকরা পান না। এছাড়া সরকারি কর্মচারীরা নিয়মিত বিনোদন ভাতা পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও বৈষম্য প্রকট। সরকারি চাকরিজীবীদের দুই সন্তানের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা এক হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর। অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য কোনো ধরনের শিক্ষা ভাতার বরাদ্দ নেই। ফলে নতুন পে-স্কেল নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে একদিকে আশার আলো থাকলেও অন্যদিকে বঞ্চনার ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...