বিজ্ঞাপন
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকার বা তার মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হলে বা পদ শূন্য থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর এই আইনি বাধ্যবাধকতা বর্তায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে স্পিকারের পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করান। তবে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসিকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া সংবিধানের ৩ নম্বর তফসিল অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে সিইসি এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনার মো. আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং স্পিকার না থাকলে সিইসিই শপথ পাঠ করাবেন—এটি নিশ্চিত। এ লক্ষ্যে ইসি ও সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিকের মতে, স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিইসির মাধ্যমে শপথ নেওয়া পুরোপুরি বৈধ এবং এটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পড়ে। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, শপথ গ্রহণে বিলম্ব হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রম শুরু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই সংসদ অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ সংস্কারের কাজ শেষ করে নতুন সংসদ সদস্যদের বরণের জন্য প্রস্তুত করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট ছাড়াই নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...