বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বায়ো বুধবার বিকেলে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সাথে সম্পৃক্ত ‘লাকুরাওয়া’ নামক একটি সশস্ত্র দল এই হামলা চালিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা গ্রামের বাসিন্দাদের এক জায়গায় জড়ো করে হাত পেছনে বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। হামলাকারীরা কেবল মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা অসংখ্য ঘরবাড়ি এবং দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
কায়ামা অঞ্চলের রাজনীতিবিদ সাইদু বাবা আহমেদ জানান, বর্তমানে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে। এই ঘটনায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রাজাসহ বেশ কিছু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, নিহতের সংখ্যা ১৭০ জন ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, গত পাঁচ মাস ধরে বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের নিয়মিত হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠালেও নিরাপত্তা বাহিনীর গাফিলতির কারণে এই বিশাল বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়নি।
গ্রামবাসীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা মূলত জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্য যারা নিয়মিত গ্রামে এসে প্রচার চালাত। তারা গ্রামবাসীদের নাইজেরিয়া রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে শরিয়া আইন মেনে চলার দাবি জানিয়ে আসছিল। গত মঙ্গলবার একটি ওয়াজ মাহফিল চলাকালীন গ্রামবাসীরা তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে।
কুয়ারা রাজ্যের গভর্নর আবদুল রহমান আবদুল রাজাক এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে পুরো নাইজেরিয়া জুড়ে নিরাপত্তা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জিহাদি বিদ্রোহ, উত্তর-পশ্চিমে ‘ডাকাত’ দলের লুটপাট ও অপহরণ এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি সামরিক বাহিনী কুয়ারা রাজ্যে অভিযান চালিয়ে ১৫০ জন সন্ত্রাসীকে নির্মূলের দাবি করেছিল। কিন্তু তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিশাল বেসামরিক হত্যাকাণ্ড নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থাকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...