বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনো বৈধ গণমাধ্যম, প্রেস কাউন্সিল নিবন্ধন কিংবা স্বীকৃত সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও মিঠু নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছেন। এই ভুয়া সাংবাদিক মূলত অসহায় দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সামাজিকভাবে দুর্বল মানুষদের টার্গেট করে থাকেন।
তথাকথিত এই ব্যক্তির প্রধান হাতিয়ার হলো ফেসবুক লাইভ। তিনি বিভিন্ন মানুষের ভিডিও গোপনে ধারণ করে বা এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়, আর না দিলে লাইভে এসে অশ্রাব্য ও মানহানিকর গালিগালাজ করা হয়। দিরাই শহরের একটি দোকানের সাবেক এই সেলসম্যান বর্তমানে কোনো স্থায়ী পেশা ছাড়াই মোটরসাইকেল নিয়ে ‘সমস্যা খোঁজা’র নামে চাঁদাবাজি করে বেড়ান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রতারণার অংশ হিসেবে মিঠু ‘বাংলার প্রতিচ্ছবি’ নামের একটি মেয়াদবিহীন ভুয়া কার্ড ব্যবহার করেন। এমনকি ‘দিরাই সাংবাদিক ইউনিয়ন’-এর সদস্য দাবি করে ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কোনো কমিটিতেই তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ কুলঞ্জ ইউনিয়নের সামাজিক সংগঠন KDO-এর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মানহানির অপচেষ্টা চালায় এই চক্র। মোটা অঙ্কের টাকা না পেয়ে সংগঠনটিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হয় এবং আইনি পদক্ষেপের কথা বললে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
দিরাইয়ের সচেতন মহলের মতে, ফেসবুক লাইভকে অস্ত্র বানিয়ে এই প্রকাশ্য সন্ত্রাস অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই ভুয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজির আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...