ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র।
বিজ্ঞাপন
২০০৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সান্তোসের জার্সিতে যে জাদুকরী পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই আঁতুড়ঘরেই থামতে চান নেইমার। গত বছরের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন তিনি। ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।
নেইমার জানিয়েছেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আর মাঠে নামবেন কি না, তা নিয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।
গত বছর চোট কাটিয়ে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে জানপ্রাণ লড়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড, যার জন্য তাঁকে শারীরিক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। গত ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তিনি মাঠে ফেরেন। তবে নেইমার স্বীকার করেছেন, এখনো পূর্ণ ফিট না হওয়ায় মাঠে তাঁকে অত্যন্ত সাবধানে খেলতে হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা নেইমারের অন্যতম বড় লক্ষ্য হলেও সেই পথটি এখন বেশ কণ্টকাকীর্ণ। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর চোটের কারণে তিনি আর ব্রাজিলের জার্সিতে নামতে পারেননি। জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর জন্য দরজা খোলা রাখলেও শর্ত দিয়েছেন পূর্ণ ফিটনেসের।
নেইমার নিজেও মনে করেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া এক ‘বিরাট চ্যালেঞ্জ’।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেইমার বলেন, “আগামী বছর কী হবে আমি জানি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে আমি অবসর নিতে চাইব। এখন আমি কেবল এ বছরটি নিয়ে ভাবছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অবসরের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর হৃদয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ১২৮ ম্যাচে করেছেন ৭৯টি গোল। ইউরোপীয় ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে ট্রেবল জয় এবং পিএসজির হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তিনি। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘সি’ গ্রুপের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। নেইমার যদি সত্যিই ডিসেম্বরে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার আগে শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন এই কিংবদন্তি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...