বিজ্ঞাপন
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে পৌরসভার ধাক্কামারা গোলচত্বর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহীন আলম জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি গ্রামের জয়নুল হকের ছেলে। তিনি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানিতে (নেসকো) চুক্তিভিত্তিক লাইনম্যান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে পঞ্চগড়ের বিসিক ফিডারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নেসকোর একটি দল তা মেরামতের জন্য ঘটনাস্থলে যায়। শাহীন আলম মই ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে কাজ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, কাজ শেষ হওয়ার আগেই লাইন সচল করে দেওয়ায় তিনি ১১ হাজার ভোল্টের লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং দীর্ঘ সময় খুঁটির সঙ্গে ঝুলে থাকেন।
স্থানীয়দের দাবি, শাহীন আলম প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিদ্যুতায়িত অবস্থায় ঝুলে ছিলেন। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নেসকোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপস্থিত জনতা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা নেসকোর পঞ্চগড় কার্যালয় ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে তারা পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে স্বজনরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান, সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...