বিজ্ঞাপন
বুলবুলের আত্মত্যাগের গল্পটি যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। আইসিসির (ICC) এশিয়া অঞ্চলের ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে প্রায় ১৪ লাখ টাকার নিশ্চিত জীবন ও আভিজাত্য ছেড়ে তিনি দেশে ফিরেছিলেন শুধুমাত্র লাল-সবুজের প্রতি টানে। বিসিবির শীর্ষ পদে থেকেও তিনি কোনো বেতন গ্রহণ করেননি; বরং নিজের পকেটের টাকা খরচ করে দেশের ক্রিকেটের তদারকি করেছেন। মেলবোর্ন থেকে ঢাকা যাতায়াত কিংবা রাজধানীতে নিজের থাকার খরচ—সবই করেছেন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে। অথচ এমন নিঃস্বার্থ মানুষের যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে ভয় পেয়েছে বিসিবির একটি প্রভাবশালী মহল।
ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞার বিচারে বুলবুল বিশ্বমানের। লেভেল-৩ কোচিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে আফগানিস্তান থেকে শুরু করে আরব আমিরাত পর্যন্ত যাঁর ছাত্র ছড়িয়ে আছে, তাঁর মেধা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ধৃষ্টতা কারও নেই। বিসিবির দায়িত্ব নিয়েই তিনি তৃণমূলের ক্রিকেটকে শক্তিশালী করতে ‘ট্রিপল সেঞ্চুরি’ নামক যুগান্তকারী প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল—বিভাগীয় ক্রিকেটকে শক্তিশালী করা এবং দেশি কোচদের মান উন্নয়ন। কিন্তু মেধাভিত্তিক এই সংস্কার কাজগুলোই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। কারণ, স্বচ্ছতা বজায় থাকলে লবিং-নির্ভর রাজনীতির পথ বন্ধ হয়ে যায়।
সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (২০২৬) ইস্যুতে। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে যখন বিশ্বকাপের ভেন্যু ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর বিতর্কিত চাপ আসছিল, তখন বুলবুল আইসিসির নিয়ম এবং দেশের ক্রিকেটীয় মর্যাদার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। লবিংবাজদের অনৈতিক প্রস্তাবের কাছে মাথা নত না করাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি ‘অ্যাডহক’ কমিটির মাধ্যমে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাকে খোদ বুলবুল নিজেই ‘সাংবিধানিক ক্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যিনি আইসিসির উচ্চপদস্থ চাকরি ছেড়ে দেশের ক্রিকেটের কফিনে প্রাণ সঞ্চার করতে এসেছিলেন, আজ তাঁকেই সেই কফিনের শেষ পেরেক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যোগ্যতা যখন লবিংয়ের কাছে পরাজিত হয়, তখন ক্ষতিটা কোনো ব্যক্তির নয়, বরং পুরো দেশের ক্রিকেটের হয়। বুলবুলের সাথে এই চরম অন্যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবেই লিপিবদ্ধ থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...