বিজ্ঞাপন
বিলাইছড়ি উপজেলায় আয়োজিত ফুল ভাসানো কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় জনসাধারণের সঙ্গে উৎসবে শামিল হয়ে নদীতে ফুল ভাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান।
ফুল ভাসানোর পর ধুপ্যাচর যুব সমাজের উদ্যোগে বিঝুর এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। “নিজস্ব সংস্কৃতি, নিজের গর্ব; বিঝু, বিষু, সাংগ্রাই আনন্দে হোক ঐক্যের উৎসব” —এই স্লোগানকে সামনে রেখে র্যালিটি উপজেলা ঘাট থেকে শুরু হয়ে বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ধুপ্যাচরে গিয়ে শেষ হয়। এতে পৃথক ব্যানারে দীঘলছড়ি বিঝু উদযাপন কমিটি ও রাইখ্যাং সাংস্কৃতিক শিল্পীগোষ্ঠীও অংশগ্রহণ করে।
পার্বত্য জনপদে এই উৎসব সপ্তাহ বা মাসব্যাপী চললেও মূল উদযাপন হয় তিন দিনব্যাপী। উৎসবের প্রথম দিন 'ফুল বিঝু'তে নদীতে ফুল ভাসানো হয়। দ্বিতীয় দিন 'মূল বিঝু' বা 'মুর বিঝু', যেদিন ঘরে ঘরে হরেক রকমের পিঠা, পায়েস এবং অন্তত ৩০-৩৫ প্রকার সবজির সংমিশ্রণে তৈরি ঐতিহ্যবাহী 'পাজন' দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। উৎসবের তৃতীয় দিন হলো 'গোজ্জেপোজ্জে' বা নতুন বছর (নুঅ-বজর)। এই দিনে ঘরে ঘরে আপ্যায়নের পাশাপাশি বিহারে বিহারে মঙ্গল কামনায় বিশেষ পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, এই উৎসবটি পার্বত্য চট্টগ্রামের একেক সম্প্রদায়ের কাছে একেক নামে পরিচিত। চাকমা ভাষায় এটি 'বিঝু', মার্মা ভাষায় 'সাংগ্রাই', ত্রিপুরা ভাষায় 'বৈসু', তঞ্চঙ্গ্যা ও গুর্খা ভাষায় 'বিষু', ম্রো ভাষায় 'চাংক্রান', খিয়াং ও খুমী ভাষায় 'চাংলান', সাঁওতাল ভাষায় 'পাতা' এবং অহমিয়া ভাষায় 'বিহু'। নাম ভিন্ন হলেও ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দ ভাগাভাগির মূল সুর সব সম্প্রদায়ের মধ্যেই এক ও অভিন্ন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...