Logo Logo

লোডশেডিং

গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা ব্যাহত


Splash Image

গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে তীব্র লোডশেডিং এবং দীর্ঘ এক মাস ধরে জেনারেটর বিকল হয়ে থাকায় পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত সেবাগ্রহীতা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলেই অফিসের সার্ভারসহ সকল ডিজিটাল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।


বিজ্ঞাপন


অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এই কার্যালয়ে গড়ে ৭০ থেকে ১০০টি পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ে এবং সমপরিমাণ পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়। আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট), ছবি তোলা এবং তথ্য যাচাইসহ প্রতিটি ধাপই বিদ্যুৎ নির্ভর। গত এক মাস আগে অফিসের একমাত্র জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং।

পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো: নুরুল হুদা এই সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সাধারণত দুটি ফিডারের সংযোগ প্রয়োজন হয়, যাতে এক লাইনে বিদ্যুৎ না থাকলে অন্যটি দিয়ে কাজ চালানো যায়। বর্তমানে একটি ফিডার থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দ্বিতীয় ফিডারের সংযোগ চেয়ে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কাছে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া বিকল জেনারেটরটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে টেকনিশিয়ানরা এটি পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মঈন উদ্দিন জানান, জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অর্ধেক। ১৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ায় রোটেশন অনুযায়ী লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পাসপোর্ট অফিসের দ্বিতীয় ফিডারের আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাছাকাছি অন্য ফিডার থাকলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব, তবে এর ব্যয়ভার পাসপোর্ট অফিসকেই বহন করতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টুঙ্গিপাড়া থেকে আসা সম্পা বাড়ৈ, কোটালীপাড়ার সুমি এবং দক্ষিণ বাসুড়িয়া গ্রামের রাফসারসহ অসংখ্য সেবাগ্রহীতা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় বসে আছেন। সেবাগ্রহীতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাসপোর্ট একটি জরুরি সেবা। চিকিৎসা বা উচ্চশিক্ষার জন্য যারা জরুরি পাসপোর্ট করতে আসেন, তারা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কাজের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তাদের যাতায়াত খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং নতুন জেনারেটর স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...