বিজ্ঞাপন
তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবারই এমন ঘটনা ঘটেছিল—যখন কোনো অভিনেতা নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করে সরাসরি নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে তামিল সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা এমজি রামাচন্দ্রান (এমজিআর) তার দল এআইএডিএমকে (AIADMK) নিয়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন। বিজয়ের আগে জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি নিজে কোনো দল গঠন করেননি, বরং এমজিআর-এর উত্তরাধিকার বহন করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী পর বিজয় আবারও সেই ইতিহাস ফিরিয়ে আনলেন।
তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। থালাপতি বিজয়ের দল 'টিভিকে' এককভাবে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন দলের জন্য এই ফলাফলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা 'বিস্ময়কর' বলে অভিহিত করছেন। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য আরও ১০টি আসন প্রয়োজন, তবে কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করলে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
বিজয় মূলত এমজি রামাচন্দ্রানের দেখানো পথেই হেঁটেছেন। এমজিআর যেভাবে তার বিশাল ভক্তশ্রেণীকে রাজনৈতিক কর্মীতে রূপান্তর করেছিলেন, বিজয়ও ২০০৯ সাল থেকে সেই কাজ শুরু করেন। তার সংগঠন 'বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম' (বিএমওয়াই)-এর মাধ্যমে তিনি ভক্তদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় অন্য দলকে সমর্থন দেওয়ার পর, ২০২৪ সালে তিনি নিজের দল 'টিভিকে' নিয়ে ময়দানে নামেন এবং প্রথমবারেই বাজিমাত করেন।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো দুই শক্তিশালী শিবিরের বাইরে বিজয়ের এই উত্থানকে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের হাওয়া হিসেবে দেখছে। এখন দেখার বিষয়, সিনেমার পর্দার মতো বাস্তবের প্রশাসনিক ময়দানেও থালাপতি বিজয় কতটা বীরত্বের স্বাক্ষর রাখতে পারেন।
সূত্র : এনডিটিভি
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...