বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পদোন্নতির দাবিতে শাটডাউন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা তৈরি করা শিক্ষকদের অধিকাংশই বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং তাদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন তুঙ্গে, তখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক প্রায় দেড় ঘণ্টার একটি দীর্ঘ অনলাইন (জুম) সভা করেন। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ওই সভার ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কীভাবে দমন করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করেন তারা। তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবদুল বাতেন চৌধুরী সেই সভায় বলেছিলেন, "শিক্ষার্থীদের ঘোষিত এক দফার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমি এই আন্দোলনে যারা নেমেছে তাদের ঘৃণা করি।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, তারা সবাই আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগকৃত এবং শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়ানোর এখনই সময়।
একই সভায় মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও তৎকালীন প্রক্টর ড. মো. আব্দুল কাইউম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরাসরি হুমকি দেন। তার বিরুদ্ধে প্রক্টর থাকাকালীন শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা চালানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি সভায় হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, আন্দোলনকারীরা তার নিজের শিক্ষার্থী হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইসরাত জাহান লিজাও শেখ হাসিনার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশ করে আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার কমিটিতেও এই শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রচার কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বর্তমান আন্দোলনের অন্যতম নেতা ড. আব্দুল বাতেন চৌধুরী।
কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল কাইউম, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভির কায়সার, গণিত বিভাগের ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন ও ড. হেনা রানী বিশ্বাস, লোকপ্রশাসন বিভাগের ড. ইসরাত জাহান এবং ইংরেজি বিভাগের ইয়াসিফ আহম্মেদ ফয়সাল।
আন্দোলনরত শিক্ষক আব্দুল কাইউমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তিনি তুচ্ছ কারণে শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ কমিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং শিক্ষাজীবনে হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিতেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণ শিক্ষকদের পদোন্নতির ন্যায্য দাবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী এই শিক্ষকরা নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...