বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এই বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়দের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটুর ওপর পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে। অনেক শিক্ষার্থী পোশাক ভিজিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে অভিভাবকদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অরুয়াইল ও দুবাজাইল এলাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই মেটো সড়কটি কিন্তু রাস্তার বড় একটি অংশ ভেঙে পানির নিচে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত পথচারী কাপড় ভিজিয়ে কষ্ট করে এ পথ অতিক্রম করছেন। বর্ষাকাল কিংবা ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তখন সড়কের ভাঙা অংশে পানির স্রোত বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা। জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন চলাচল করতে না পারায় রোগীদের কোলে করে কিংবা বিকল্প উপায়ে রাস্তা পার করাতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের চরম আতঙ্ক ও কষ্টের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
তাছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল গোলায় তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন করুণ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কার ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত ভাঙা অংশ মেরামত ও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...