বিজ্ঞাপন
খামার সূত্রে জানা গেছে, কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়ার ‘আলিফ লাম এগ্রো লিমিটেড’-এর মালিক মাসুদ পারভেজ মাসুম প্রায় তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী নকলা উপজেলা থেকে মাত্র ১ লাখ ৬ হাজার টাকায় বাছুর অবস্থায় এই ষাঁড়টি কিনে এনেছিলেন। এরপর থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খৈল, খড়, বিভিন্ন ধরনের ভুসি ও পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে বিশেষ যত্নে বড় করে তোলা হয়েছে ‘বাংলার ডন’-কে।
খামারের ম্যানেজার মনির মিয়া জানান, আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে তাদের খামারে রাজা ও বাদশা নামের আরও অনেক গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে ‘বাংলার ডন’-এর মতো বিশাল আকৃতির আর কোনো গরু তাদের সংগ্রহে নেই।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবার পুরো শেরপুর জেলায় আলোচনার শীর্ষে থাকবে এই ষাঁড়টি। ওজন ও কেজি হিসেবে বিক্রি করলেও এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে।
খামারের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ম্যানেজার আরও জানান, তাদের খামারে বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ মণ ওজনের আরও ১০টি বড় আকারের গরু রয়েছে। এর পাশাপাশি আসন্ন ঈদে বিক্রির উপযোগী করে আরও প্রায় শতাধিক ছোট ও মাঝারি আকারের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।
বাংলার ডনের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই বিশাল ষাঁড়টির জন্য প্রতিদিন বিশেষ যত্ন নিতে হয়; তাকে দিনে তিন থেকে চারবার গোসল করানোসহ দৈনিক প্রায় ৮০ কেজি তাজা ঘাস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়।
খামারের শ্রমিক হাবিবুর রহমান হাবিব নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এত বড় গরু পালন করা অত্যন্ত পরিশ্রমের কাজ। খামারের সবাই একে নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসেন। খামারের মালিকও প্রতিদিন দূর থেকে ফোন করে বাংলার ডনের খোঁজখবর নেন।
এদিকে নালিতাবাড়ীর মরিচপুরান গ্রাম থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবী শাহীন আলম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, এত বড় গরু তিনি এর আগে কখনো দেখেননি। দূর থেকে দেখতে এটি অনেকটা হাতির মতো বিশাল লাগে। লোকমুখে শুনে কৌতূহলবশত তিনি খামারে এটি দেখতে এসেছেন।
এই বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম জানান, নিরাপদ ও সুস্থ পশু উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় খামারিদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় তদারকি সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে খামারিরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই তাদের পশু নিরাপদভাবে বাজারজাত করতে পারেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...