বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসন এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), নীলফামারী যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সনাক সভাপতি মো. আকতারুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। সেবাগ্রহীতাদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের জবাব দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।
সনাক সদস্য মো. মিজানুর রহমান লিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সভাপতি হাসান রাব্বী প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, সনাক সহ-সভাপতি ভুবন চন্দ্র রায় এবং টিআইবি’র রংপুর অঞ্চলের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর কমল কৃষ্ণ সাহা।
গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দেড় শতাধিক সাধারণ সেবাগ্রহীতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সনাক, ইয়েস ও এসিজি (অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপ)-এর সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ভুক্তভোগীরা সরাসরি ভূমি সেবা সংক্রান্ত নানা অনিয়ম, হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার বাস্তব চিত্র প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন।
শুনানিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম সেবাগ্রহীতাদের উত্থাপিত ৪০টিরও বেশি প্রশ্ন ও অভিযোগের সরাসরি জবাব দেন। তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গণশুনানি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। তিনি সাধারণ মানুষকে দালালচক্রের ওপর নির্ভরতা পরিহার করে সরাসরি অফিসে এসে সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম বা ভোগান্তির শিকার হলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বেশ কয়েকটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেন এবং অন্যান্য জটিল সমস্যাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ”ভূমি অফিসকে শতভাগ দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমেই ভূমি সেবার প্রকৃত মানোন্নয়ন সম্ভব। তবে ভূমি সেবার মানোন্নয়নে শুধু প্রশাসনের সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়; সেবাগ্রহীতাদেরও সমান সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। ভূমি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকদের জ্ঞান যত বাড়বে, সেবাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন তত দ্রুত দৃশ্যমান হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা উল্লেখ করেন, এই গণশুনানি শুধু সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরার একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং এটি সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাভিত্তিক সম্পর্ক জোরদারে একটি অত্যন্ত কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...