Logo Logo

পাইকগাছায় মসজিদের টাকা আত্মসাৎ ও স্থাপনা ভাঙ্গা নিয়ে সাবেক ও বর্তমান সভাপতির বিরোধ, থানায় অভিযোগ


Splash Image

খুলনার পাইকগাছায় একটি মসজিদের টাকা আত্মসাৎ এবং ঈদগাহ চত্বরে মুসল্লিদের বসার পাকা বেঞ্চ ভাঙাকে কেন্দ্র করে সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সভাপতির মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক সভাপতি নুর ইসলাম শিকারীর বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বর্তমান সভাপতি শাহজাহান গোলদার।


বিজ্ঞাপন


উপজেলার খড়িয়া বাইনতলা জামে মসজিদে এই ঘটনাটি ঘটে।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নুর ইসলাম শিকারী খড়িয়া বাইনতলা জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি থাকাকালীন মসজিদের ফান্ড থেকে ১১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমান কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর সাবেক সভাপতিকে উক্ত টাকা মসজিদ ফান্ডে জমা দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি তা না দিয়ে আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শুধু টাকা আত্মসাৎই নয়, মসজিদের পাশে অবস্থিত ঈদগাহ চত্বরে মুসল্লিদের বসার জন্য নির্মিত একটি পাকা স্থাপনা (বেঞ্চ) সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলেছেন সাবেক সভাপতি। এই অন্যায়ের প্রতিকার ও সুরাহা চেয়ে বর্তমান সভাপতি শাহজাহান গোলদার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এদিকে টাকা আত্মসাৎ ও স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাবেক সভাপতি নুর ইসলাম শিকারী। পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বর্তমান সভাপতি শাহজাহান গোলদার মাত্র এক মাস আগে একটি ২ সদস্য বিশিষ্ট স্বঘোষিত কমিটি গঠন করেছেন। মসজিদের সাধারণ মুসল্লিরা কেউই তাঁর এই অনৈতিক কথা শোনেন না এবং মানেন না। যে কারণে তিনি আজ পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটিও গঠন করতে পারেননি।”

টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তিনি বলেন, “মসজিদের টাকা আত্মসাৎ করার প্রশ্নই আসে না। কারণ এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও মূল জমিদাতা হলেন আমার নিজের বাবা।” স্থাপনা ভাঙার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, “মসজিদের পাশে আমার আব্বার কবরে যাওয়ার একমাত্র পথটি বর্তমান কমিটি পাকা বেঞ্চ বানিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ মুসল্লিরাই যাতায়াতের সুবিধার্থে ওই বসার জায়গাটি ভেঙে দিয়েছেন।”

মসজিদ কমিটি ও টাকা নিয়ে সাবেক ও বর্তমান সভাপতির এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি এবং থানায় অভিযোগের ঘটনায় খড়িয়া বাইনতলা এলাকায় স্থানীয় ও সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার্থে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাইকগাছা থানা পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...