Logo Logo

দশ বছরের অপেক্ষা শেষে স্কুলে ফেরা প্রধান শিক্ষক আবদুর নুরের


Splash Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের শত বর্ষের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর নুরের জীবনের গত এক দশক যেন ছিল আদালত, প্রশাসন আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে এক দীর্ঘ সংগ্রামের নাম। যিনি একসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, তাকে ঘিরে সৃষ্ট ষড়যন্ত্র মূলক বিতর্ক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে ২০১৬ সালে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ আইনি লড়াই।


বিজ্ঞাপন


বছরের পর বছর ধরে নিম্ন আদালত, জেলা জজ আদালত, শিক্ষা বোর্ড এবং উচ্চ আদালতে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য লড়াই চালিয়ে যান তিনি। আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ে তার পক্ষে রায় এলেও বাস্তবে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব ফিরে পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও অনেক বছর।

অবশেষে প্রশাসনিক নানা নাটকীয়তার পর তাকে পুনরায় দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে স্থানীয়রা শুধু একজন শিক্ষকের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বরং এটিকে ন্যায়বিচারের দীর্ঘ অপেক্ষার পরিণতি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সালে আবদুর নুরকে আর্থিক অসঙ্গতি ও জামায়াতপন্থী আখ্যা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় তাদেরকে সহযোগিতা করেন তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

এরপর থেকে অদ্যবধি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন ৩ জন শিক্ষক। সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করছিলেন সেই ষড়যন্ত্রের কৌশলী হিসেবে অন্যতম রফিকুল ইসলাম। তিনি ২০১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সংযুক্ত প্রাথমিক শাখার প্রধান শিক্ষক হিসেবেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবদুর নুরের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে গত ছয় বছরে নিম্ন আদালত, জজ আদালত, হাইকোর্ট এবং শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন মামলার খাতে বিদ্যালয় তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, যখন আদালত ধারাবাহিকভাবে আবদুর নুরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তখন কেন একের পর এক আপিল করা হলো? এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় ও শিক্ষা কার্যক্রমে সৃষ্ট অস্থিরতার দায় কে নেবে?

দীর্ঘ আইনের লড়াইয়ের পর দায়িত্বে ফিরে পাওয়া প্রধান শিক্ষক আবদুর নুর বলেন, আমি সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। আদালতের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছি। এখন আমার লক্ষ্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে আদালতের রায়ের পরও ধারাবাহিকভাবে আপিল করার কারণ এবং বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মনে করছেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীরা। তারা আশা করছেন, আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার পর এখন আর কোনো দ্বন্দ্ব নয় বরং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির দিকে সবাই মনোযোগ দেবেন।

এদিকে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার পরও শঙ্কা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে ই। তারা বলছেন, যারা ষড়যন্ত্র করেছিল তারা কোন শাস্তির আওতায় আসে নাই। দায়িত্ব ফেরা আব্দুন নূর আদৌ কি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে কি না জনমনে প্রশ্ন উঠছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...