বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে নিহত রাফাতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা রাফাতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
নিহত রাফাত হোসেন কালিগঞ্জ উপজেলার বারোদা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে আশাশুনি উপজেলার সেতরপুর গ্রামের একটি মুরগির ফার্মে কর্মরত ছিলেন। তাদের দাবি, কর্মস্থলে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ১৩ জুন তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে তাকে পুনরায় ফার্মে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের দাবি, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ও নির্যাতনের আলামত ছিল। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বারোদা গ্রামের আব্দুল লতিফ সরদার, রুহুল কুদ্দুস গাজী ও আজিজুল ইসলাম। তারা বলেন, রাফাতের মৃত্যু অত্যন্ত রহস্যজনক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত রাফাতের মা শাহানারা খাতুন বলেন, “আমার ছেলে জীবিকার তাগিদে ফার্মে কাজ করতে গিয়েছিল। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি দিতে হবে।”
মানববন্ধন থেকে দ্রুত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, রাফাত হোসেনের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও দাবি অব্যাহত থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...