বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের চর গওহরডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত এবিসি ব্রিকস ইটভাটা ও জুটমিলের স্বত্বাধিকারী ইবাদত খলিফার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তারা চলাচলের স্বাধীনতা হারিয়েছেন এবং সরকারি সড়কও আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মধুমতি নদীর তীরঘেঁষে মোল্লাহাট-পাটগাতী পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘ পাকা সড়ক থাকলেও এর সংযোগস্থল বা শুরু অংশ এখনো অসম্পূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়ার একমাত্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ইবাদত খলিফার জুটমিলের কারণে সড়কটি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। কয়েক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলেও এর শুরু অংশ না থাকায় এলাকাবাসীর কাছে এটি যেন “গোড়ায় গিট ছাড়া মালা”।
এলাকার প্রায় ২০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের জন্য ইবাদত খলিফার ইটভাটার মধ্য দিয়ে চলাচল করতেন। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের পর গেট বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ফলে ইটভাটা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে নিজেদের জীবনযাত্রা মানিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। এছাড়া সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২০০ ফুট অংশও ব্যক্তিস্বার্থে কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখের স্ত্রী খালেদা বেগম (৫৯) বলেন, “আমরা মারা গেলেও যেন দেখার কেউ নেই। ঈদের দিনেও গেট বন্ধ ছিল। আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। সন্ধ্যার আগেই আমাদের বাড়িতে ফিরতে হয়, না হলে আর ঢোকা যায় না। চলাফেরার স্বাধীনতা নেই। মাঝরাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া যুদ্ধের মতো হয়ে যায়।”
অপর বাসিন্দা মোয়ের আলী শেখ (৬০) বলেন, “জুটমিলের কারণে সরকার রাস্তা করতে পারেনি। যেটুকু অংশ ছিল, সেখান থেকেও অনেকটা কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা কয়েকটি পরিবার প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করছি। ইটভাটার ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতাম, এখন নির্দিষ্ট সময়ের পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা সমস্যার সমাধান চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুটমিল ও ইটভাটা মালিক ইবাদত খলিফার ছেলে খালিদ হাসান অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “ইটভাটার ভেতরের রাস্তা আগে সব সময় খোলা থাকত। কিন্তু সম্প্রতি সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবন ও মাদক কারবারিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টুঙ্গিপাড়া থানায় অভিযোগও করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সন্ধ্যার পর গেট বন্ধ রাখা হয়। তবে সেখানে সব সময় নাইটগার্ড থাকে এবং কারও জরুরি প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে দেওয়া হয়।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক নির্মাণে বাধা এবং প্রায় ২০০ ফুট রাস্তার অংশ কেটে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টুঙ্গিপাড়ার একমাত্র শিল্পকারখানা এটি। আমরা পূর্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু আমাদের শর্ত মানা না হওয়ায় কাজ সম্পন্ন হয়নি।” একই সঙ্গে জুটমিল পর্যন্ত রাস্তার বালু কেটে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
বড় বাজেটের এ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কয়েক বছর পার হলেও কাজ এখনো কেন অসম্পূর্ণ রয়েছে, সে বিষয়ে গোপালগঞ্জ (টুঙ্গিপাড়া) পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে পুরোনো নথি দেখে তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তী দুই দিন একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, “অভিযোগকারী পরিবারগুলোর সমস্যা নিরসনে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে চলাচলের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি সড়ক দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ২০ পরিবারের সদস্যরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...