Logo Logo

সাড়ে ৬ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি গোপালগঞ্জ ট্রমা সেন্টার


Splash Image

নির্মাণকাজ শেষ ও হস্তান্তরের সাড়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি গোপালগঞ্জের ২০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারের কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় মাত্র দুজন ধার করা সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে কোনো রকমে বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে অস্ত্রোপচার কক্ষের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও এক্স-রে মেশিন। ইতোমধ্যে কয়েকবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে প্রতিষ্ঠানটিতে।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনা ও আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের জরুরি এবং নিবিড় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় এক একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় গোপালগঞ্জ ২০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টার। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘পঙ্গু হাসপাতাল’ নামেই বেশি পরিচিত।

২০১২ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় এবং ২০১৪ সালের মার্চে বাস্তবায়নের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়। তখন নির্মাণকাজের মেয়াদ ছিল মাত্র ছয় মাস। তবে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ছয় দফা বৃদ্ধি করা হয় এবং চারবার পরিবর্তন করা হয় প্রকল্প পরিচালক। দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু হস্তান্তরের পরও প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসকসহ মোট ১৪ জন জনবল নিয়োগের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। ফলে ট্রমা সেন্টারটির কাঙ্ক্ষিত সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সদর উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গ্রামের আলম (৪০), গোবরা গ্রামের রুহানী সুলতানা (২৪) এবং ঘোনাপাড়া গ্রামের নুসরাত জাহান বলেন, “এখানে মূলত জ্বর, মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ ছোটখাটো রোগের ওষুধ দেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ ওষুধের প্রয়োজন হলে আমরা ট্রমা সেন্টারে আসি।”

ঘোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তোজাম্মেল হক (৫০) বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ট্রমা সেন্টারটি তৈরি হয়ে আছে, কিন্তু এখনও পুরোপুরি চালু করা যায়নি। এখানে শুধু গ্যাস, মাথাব্যথা ও জ্বরের ওষুধ দেওয়া হয়। ট্রমা সেন্টার কি এ জন্যই তৈরি করা হয়েছে? সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও আমরা প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত।”

ট্রমা সেন্টারের পাশের চায়ের দোকানি বাবর আলী মুন্সী বলেন, “পঙ্গু হাসপাতাল হওয়ার পর এখানে অনেকবার চুরি হয়েছে। চালু না থাকায় এসব সমস্যা হচ্ছে। হাত-পা ভেঙে গেলে আমাদের খুলনা বা ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু গরিব মানুষের পক্ষে এত দূরে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। তাই দ্রুত হাসপাতালটি চালুর ব্যবস্থা করা উচিত।”

এ বিষয়ে প্রকল্পের সর্বশেষ ও সাবেক পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত মূল নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ২০২০ সালে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। এখানে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ১৪টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু জনবল নিয়োগ না হওয়ায় তখন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।”

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক বলেন, “ট্রমা সেন্টারটি চালুর জন্য কয়েক দফা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি বদলি হয়ে চলে গেছেন। বর্তমানে দুজন সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে শুধু বহির্বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত জনবল নিয়োগ হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা না হলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত থাকবে জেলার সাধারণ মানুষ এবং অব্যবহৃত অবস্থায় আরও নষ্ট হবে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...