বিজ্ঞাপন
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৮ জন রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দা এবং কিয়েভের সংলগ্ন উপশহর ও শহরতলী এলাকায় আরও ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের জাপোরিজ্জিয়া এবং সুমি প্রদেশে ২ জন করে প্রাণ হারিয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সোমবার ভোরের হামলায় রুশ বাহিনী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকা, জাপোরিজ্জিয়া এবং সুমি লক্ষ্য করে মোট ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৭টি ক্রুজ ও অন্যান্য ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে।
বিমান বাহিনীর দাবি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৩৭টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি ড্রোনের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে ড্রোনের অবশিষ্ট প্রায় ১০ শতাংশও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লাইমেঙ্কো জানান, রাজধানী কিয়েভের অন্তত ৩০টি বহুতল আবাসিক ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে হামলার পর প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি দেশের অভ্যন্তরে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং দূরপাল্লার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লাইসেন্স বা অনুমতি চেয়েছেন।
ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমই বর্তমানে একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি এবং খাড়া গতিপথের কারণে সেগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।
তিনি বলেন, “এটা একেবারেই অযৌক্তিক যে, আধুনিক বিশ্বে ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন এখনও বাড়ানো হয়নি।”
জেলেনস্কি আরও বলেন, “এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ইউক্রেনের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি লাইসেন্স প্রদান করে, তাহলে আমাদের উৎপাদন শুধু ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নয়, প্রয়োজনে মিত্র দেশগুলোকেও সহায়তা করার মতো সক্ষমতা অর্জন করবে।”
সূত্র : রয়টার্স।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...