বিজ্ঞাপন
টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে দুই দল। ফুটবলবোদ্ধারা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দুই দলের এই দ্বৈরথকে ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে অভিহিত করেছেন। দুদলের ফুটবল দর্শনে রয়েছে দারুণ বৈপরীত্য– ফ্রান্স যেখানে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে পারদর্শী, সেখানে স্প্যানিশরা বল পজেশন ও পাসিং ফুটবলে বিশ্বাসী।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সকে। তাদের অলস্টার আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইতোমধ্যে ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। আক্রমণভাগে এমবাপ্পের সঙ্গে আরও রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা মাইকেল ওলিসে, ওসমানে দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং ডিসায়ার ডুয়ে।
আজ মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা তিনটি সেমিফাইনাল খেলার অনন্য কীর্তি স্পর্শ করতে যাচ্ছে ফ্রান্স। এর আগে ফুটবল ইতিহাসে কেবল জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০ এবং ২০০২-২০১৪) ও ব্রাজিল (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) টানা তিনটি সেমিফাইনাল খেলার এই ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছিল।
অন্যদিকে, স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে নিজেদের চেনা টিকিটাকা বা বল দখলের পারদর্শিতা, সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে কৌশলী আক্রমণ চালানো ও দুর্দান্ত প্রতিভাবান স্কোয়াড নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় সেমিফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন।
২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বড় টুর্নামেন্টে টানা ১৪টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে ‘লা রোজা’রা। এই দীর্ঘ সময়ে তারা মাত্র ৫টি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি, যার মধ্যে ৯টি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে ‘ক্লিন শিট’ বা গোলশূন্য রাখতে বাধ্য করেছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় স্পেনের মাঝমাঠ ও ডিফেন্স কতটা অভেদ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের লড়াইয়ে বেশ এগিয়ে স্পেন। গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্রান্সকে ৫-৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেন। এর আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ফরাসিদের ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে পরে ইউরো শিরোপা ঘরে তুলেছিল স্প্যানিশরা। ফলে আজ রাতের ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য নেশনস লিগ ও ইউরো হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার বড় মঞ্চ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে স্প্যানিশদের দাপট স্পষ্ট; তারা ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। বিপরীতে ফ্রান্সের জয় ১৩টিতে এবং বাকি ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ বিশ্বকাপের শুরু থেকে বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলা ২৭টি ম্যাচের মধ্যে স্পেন হেরেছে মাত্র ১টিতে (১৬টি জয়, ১০টি ড্র)।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের চেয়ে কিছুটা মানসিক সুবিধায় এগিয়ে থাকবে ফরাসিরা। কারণ এর আগে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে জিনেদিন জিদানের ম্যাজিকে ২টি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল ফ্রান্স। বিশ্বকাপ ইতিহাসে আজ মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো দেখা হতে যাচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর।
ডালাসের মেগা মঞ্চে আজ রাত ১টায় কার ফুটবল দর্শন শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠার শেষ হাসি হাসায়, তা দেখার জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...