বিজ্ঞাপন
দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল। মরক্কোর বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত দুরন্ত গতিতে চলছে ফরাসিরা; পাঁচ ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতে কোয়ার্টারে এসেছে তারা। এই পথচলায় প্রতিপক্ষের জালে ১৪টি গোল দেওয়ার বিপরীতে তারা হজম করেছে মাত্র ২টি গোল।
ফরাসিদের এই আক্রমণের মূল কাণ্ডারি কিলিয়ান এমবাপ্পে একাই করেছেন ৭টি গোল! ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের অনন্য রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এছাড়া উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও ব্রাডলি বারকোলাকে নিয়ে গঠিত ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মানা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ‘অ্যাটলাস লায়ন’রা এখন কেবল বড় দলগুলোকে কাঁপানো কোনো আন্ডারডগ দল নয়, বরং তারা নিজেরাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে মরক্কো। ২০২৫ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (আফকন) চ্যাম্পিয়নরা বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বরে অবস্থান করছে।
মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি ম্যাচকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছেন, “আমরা এখন বিশ্ব ফুটবলে কেবল কোনো বিস্ময় বা অঘটন ঘটানো দল নই, এটা আমাদের দেশের গর্ব। আমি মনে করি আমাদের এই উত্থান কেবল শুরু, আশা করি বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ স্তরে অনেক বছর ধরে আমাদের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”
ফ্রান্সের মতো পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় এক ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো শিবির। দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ও চলতি আসরে ৩ গোল করে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন।
কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারের সেই ক্ষত এখনো দগদগে মরক্কোর ফুটবলারদের মনে। ফলে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেই ঐতিহাসিক প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে থাকবে আশরাফ হাকিমিরা। তবে ফুটবলে ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিতে বিশ্বাসী নন ফরাসি মাস্টারমাইন্ড দিদিয়ের দেশম। তিনি বলেন, “ফুটবলে ম্যাচের দিন যারা মাঠে সেরাটা খেলবে তারাই জিতবে। এখানে প্রতিশোধ বা অতীত নিয়ে ভাবার কিছু নেই।” তবে মরক্কোকে যথেষ্ট সমীহ করে ফরাসি কোচ যোগ করেন, “তারা খুবই ভালো ফুটবল খেলছে। সেমিফাইনালে যেতে হলে আমাদের অবশ্যই মাঠে নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলতে হবে।”
২০২২ সালের সেই মহাকাব্যিক সেমিফাইনালের পর মরক্কো ও ফ্রান্সের আর কোনো দ্বৈরথ দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ফরাসিরা জিতেছে ৪টি ম্যাচে, আর বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। পরিসংখ্যান স্পেকট্রামে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও, মরক্কোর গতিময় কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...