বিজ্ঞাপন
ম্যাচের আগে সব আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে এক স্ট্রাইকারকে ঘিরেই— আরলিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন নরওয়ের জাতীয় দলের জার্সিতে আছেন অতিমানবীয় ফর্মে। শেষ ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তার নামের পাশে রয়েছে ২৭টি গোল! চলতি বিশ্বকাপের চার ম্যাচের প্রতিটিতেই জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালেও যদি তিনি গোল পান, তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার বিরল ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়বেন এই নরওয়েজিয়ান।
হালান্ডকে থামানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার মরগান রজার্স সংবাদ সম্মেলনে মজার ছলেই স্বীকার করেছেন, "হালান্ডকে কি কখনও কেউ পুরোপুরি থামাতে পেরেছে? আমার তো মনে হয় না। তবুও আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব।"
হালান্ডকে নিয়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, তিনি ম্যাচের অধিকাংশ সময় নিষ্ক্রিয় বা আড়ালে থাকলেও, হঠাৎ মাত্র এক সেকেন্ডে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। বিশ্বকাপে প্রতি ৯০ মিনিটে তার গড় বল টাচ মাত্র ২৪.৮, যা টুর্নামেন্টের অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে অনেক কম। অথচ ৭ গোল নিয়ে তিনি গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ঠিক পরেই (যৌথভাবে এমবাপ্পের সাথে) আছেন।
তবে নরওয়ের আক্রমণের প্রাণ শুধু হালান্ড নন, তাদের নেপথ্য কারিগর অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার আসরের প্রথম তিন ম্যাচেই অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণ চূর্ণ-বিচূর্ণ করা পাস এবং মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি নরওয়ের মূল চালিকাশক্তি। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, হালান্ডকে সরাসরি ম্যান-মার্কিং করার চেয়ে ওডেগার্ডের পা বোতলবন্দি রাখাই ইংল্যান্ডের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।
আক্রমণভাগ বিশ্বমানের হলেও নরওয়ের ডিফেন্স বা রক্ষণভাগ খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। টুর্নামেন্টের পাঁচ ম্যাচে তারা ১২টি গোল দিলেও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে হজম করেছে ৯টি গোল। বিশেষ করে টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের ডান প্রান্ত দিয়ে আসা ক্রস থেকে একাধিক গোল হজম করতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে অ্যান্থনি গর্ডনের মতো গতিময় উইঙ্গার থাকায় ইংলিশ কোচ টমাস টুখেল প্রতিপক্ষের এই দুর্বল উইংকেই আক্রমণের প্রধান রুট বানানোর পরিকল্পনা করছেন।
মিয়ামির আজকের ম্যাচে আরেকটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে স্থানীয় তীব্র আবহাওয়া। ম্যাচ শুরুর সময় তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলেও, অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মাঠে অনুভূত তাপমাত্রা (হিট ইনডেক্স) ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টুখেলের চেনা ছন্দের উচ্চ মাত্রার ‘প্রেসিং ফুটবল’ খেলোয়াড়রা কতটা ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এক্ষেত্রে নরওয়ে কিছুটা ভিন্ন ঘরানার ফুটবল খেলে। গোলরক্ষক ওরিয়ান নিয়ল্যান্ডের দীর্ঘ পাস কিংবা দীর্ঘদেহী আলেকজান্ডার সোরলথকে লক্ষ্য করে উড়ে যাওয়া বল তাদের আক্রমণের অন্যতম অস্ত্র। ফলে হালান্ড-সোরলথদের সঙ্গে হাওয়ায় বল দখলের লড়াইয়ে (এয়ারিয়াল ডুয়েল) জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনদের আজ বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।
অভিজ্ঞতার বিচারে নরওয়ের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ইংল্যান্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ইউরোর দুটি ফাইনাল এবং একাধিক বড় নকআউট ম্যাচের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই স্কোয়াডের। অন্যদিকে নরওয়ে তাদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছে।
আজ মাঠে নামলেই ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করবেন। তিনি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার সর্বকালের নতুন রেকর্ড গড়বেন।
কাগজে-কলমে অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য এবং ইতিহাস ইংল্যান্ডের পক্ষে কথা বললেও, হালান্ড ও ওডেগার্ডের নরওয়ে যেকোনো মুহূর্তে রূপকথা লেখার ক্ষমতা রাখে। শেষ চারের টিকিটের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামনে তাই অপেক্ষা করছে তাদের চলতি বিশ্বকাপ যাত্রার সবচেয়ে কঠিন ও অগ্নিপরীক্ষা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...