বিজ্ঞাপন
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সপ্তম দিনের পরীক্ষা উপলক্ষে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রসহ রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ গাছের ছায়ায়, কেউ ফুটপাতে, আবার কেউ কেন্দ্রের প্রবেশপথের সামনে অবস্থান করে পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন। অনেকের মুখেই ছিল উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার ছাপ।
অধিকাংশ অভিভাবক জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সন্তানদের একা বাসায় ফিরতে দিতে চান না। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নিজেরাই তাদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
আজ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচিকে ঘিরেই পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে।
সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবক নাসরিন আক্তার বলেন, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি দেখে সন্তানদের একা পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না। তাই পরীক্ষা শেষে মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই বাসায় ফিরবেন।
আরেক অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হোক, সেটিই সবার প্রত্যাশা। তবে পরীক্ষা শেষে কোনো কর্মসূচি থাকলে সন্তান যেন কোনো ধরনের ঝুঁকিতে না পড়ে, সে কারণেই তিনি কেন্দ্রে অপেক্ষা করছেন।
অভিভাবক আবদুল কাদের বলেন, সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার সময় কেন্দ্রে আসেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি সকাল থেকেই কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, যাতে ছেলে পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে নিয়ে বাসায় ফিরতে পারেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।
তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জানিয়েছে, জলাবদ্ধতার কারণে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...