বিজ্ঞাপন
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই দিরাই পৌর শহরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিরাই থানা পয়েন্টসহ পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই মিছিল-সমাবেশ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিরাই থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, কলেজ রোড এবং পৌর এলাকার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।
একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক বিএনপির নেতাকর্মীরা জুলাই স্মরণে দিরাই থানা পয়েন্টে একটি সমাবেশ করেন। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
এর দুই দিন পর শনিবার জুলাই-২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একই স্থানে পাল্টা সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ছোট ভাই মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী) সমর্থিত নেতাকর্মীরা।
এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানান সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও বিএনপি নেতা আলী আকবর চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
অন্যদিকে, একই স্থানে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণায় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা শুক্রবার রাতে দিরাই থানা পয়েন্টে মিছিল বের করে ওই কর্মসূচির প্রতিবাদ জানান। ফলে শনিবারের কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল দিরাই থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, কলেজ রোড এবং পৌর এলাকার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার এলাকা। এসব এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই শনিবার বেলা ১১টার পর বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা থানা পয়েন্ট এলাকায় মিছিল ও পাল্টা মিছিল বের করেন। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
বাগানবাড়িতে এক পক্ষের সমাবেশ পরে মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী), অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও আলী আকবর চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মীরা বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে সমাবেশ করেন। দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য শোয়েব হাসান, ওবায়দুর চৌধুরী মিশু, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য অসোক রায়, জেলা যুবদল নেতা মহিউদ্দিন মিলাদ এবং দিরাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল তালুকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে বক্তারা বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশের কঠোর নজরদারি দিরাই থানা পয়েন্ট, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে মিছিল ও সমাবেশ হলেও কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন,“দিরাই শহরের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। সকাল থেকেই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং মিছিল-সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। এ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তিনি বলেন,“মিছিলের পর এক পক্ষ সমাবেশ করেছে। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘাত সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
এদিকে একই দলের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির পরও মিছিল-সমাবেশের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘাত না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...