বিজ্ঞাপন
বুধবার বিকেলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবাপ্রবি) ছাত্র অধিকার পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনার সাথে আপনার পরিবার জড়িত, এটি শুধু আপনার ব্যক্তিগত জীবন নয়। দেশের আইন যদি কোনো দলকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করে, তবে চাইলেই আমরা সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারি না। তাই নিজের ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার ও পরিবারের স্বার্থে আপনাদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে।”
গোপালগঞ্জ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভৌগোলিক কারণে গোপালগঞ্জকে অনেকে বাঁকা চোখে দেখে কিংবা কিছু ক্ষেত্রে এলাকাটি বৈষম্যের শিকার হয়। তবে মন্ত্রিসভার একজন সদস্য হিসেবে যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে গোপালগঞ্জের মানুষের ন্যায্যতা, অধিকারের সমতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কথা বলব।” বক্তব্যের শেষভাগে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও মঙ্গল কামনা করেন।
এর আগে আমন্ত্রিত অতিথিরা ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শান্তি বজায় রাখতে নবীনদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। ক্যাম্পাসে যেন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কোনো গুপ্ত সংগঠন কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. সোহেল হাসান জানান, ক্যাম্পাসের নানামুখী সংকট ও সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তিনি সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান। আলোচনা পর্ব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, “সরকারের অন্যতম লক্ষ্য দেশের জনসংখ্যাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। সরকার এক কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশ্বের কোন দেশে কী ধরনের কাজের চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী জনবল তৈরি করা হচ্ছে।”
দালালদের দৌরাত্ম্য ও অভিবাসন ব্যয় নিয়ে তিনি বলেন, “দালালদের খপ্পরে পড়ে যেন প্রবাসগামীরা প্রতারিত না হন, সে লক্ষ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হচ্ছে এবং বিএমইটির (BMET) কার্যক্রম পুরোপুরি অনলাইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে বিভিন্ন এলাকায় বৈধ সাব-এজেন্সি চালুর সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।” পরিদর্শনকালে তিনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব ঘুরে দেখেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...