বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রামের এক বিশাল সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে উপস্থিত বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, বুধবার বিকাল ৩ ঘটিকায় নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে এই বর্ণাঢ্য মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নামে সভাস্থলে। আসরের পূর্বেই কনভেনশন হল ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সা.) কেবল একটি নির্দিষ্ট জাতি বা গোত্রের জন্য আসেননি, তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বজাহানের জন্য রহমত। বর্তমান অশান্ত ও জরাজীর্ণ পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে রাসূল (সা.)-এর প্রদর্শিত রাষ্ট্রনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার দিকেই ফিরে আসতে হবে। জামায়াতে ইসলামী নবীজীর (সা.) সেই ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
"মাহফিলে প্রধান ওয়ায়েজ হিসেবে মানবজীবনে সীরাতের আলো ও তাৎপর্য তুলে ধরে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পেশ করেন ঢাকার মদীনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস, প্রখ্যাত মোফাসসিরে কুরআন ড. মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কী ও মাদানী জীবনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে সমাজ সংস্কারে ওলামায়ে কেরামের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে জুলুম, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয় দূর করতে হলে তরুণ সমাজকে সীরাতের আলোয় আলোকিত হতে হবে।
এছাড়াও মাহফিলে বিশেষ ওয়ায়েজিন হিসেবে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও হাদীসের আলোকে রাসূল (সা.)-এর সুউচ্চ চরিত্র ও আদর্শের ওপর আলোচনা পেশ করেন বাইতুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (IIUC) প্রফেসর ড. বি.এম. মফিজুর রহমান আজহারী। বক্তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত সবসময়ই তাওহীদি জনতার আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করে। আজকের এই বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করে চট্টগ্রামের মানুষ ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রতি কতটা অনুগত। তিনি মাহফিল সফল করতে সহযোগিতা করার জন্য প্রশাসন, ওলামায়ে কেরাম, গণমাধ্যমকর্মী ও ধর্মপ্রাণ চট্টগ্রামবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান।মাহফিলে চট্টগ্রামের স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...