বিজ্ঞাপন
প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে বাবার মরদেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাঁর কান্না দেখে আত্মীয় স্বজনরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজায় উপস্থিত সবার চোখে জমে শোকাশ্রু।
কাশিমপুর কারাগার থেকে ৮ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে শনিবার (৮আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কোটালীপাড়া পৌর ভবনের মাঠে আসেন কোটালীপাড়া আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল হোসেন শেখ। সেখানে বাবার জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে কামাল হোসেন শেখকে রাতেই কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাবার জানাজায় অংশ নিয়ে কামাল হোসেন শেখ বলেন, আমার বাবা ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে এখন কারাগারে রয়েছি। আমি চাচ্ছিলাম কারাগার থেকে বেড়িয়ে এসে আমি আমার অসুস্থ্ মুক্তিযোদ্ধা বাবার সেবা করব। সে সুযোগ পেলাম না। মহান আল্লাহ আমার বাবাকে নিয়ে গেছেন। আমার বাবা দীর্ঘ বছর রাজনীতি করেছেন। সমাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকলে, কষ্ট পেলে আপনারা আমার বাবাকে ক্ষমা করবেন। তার জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন জান্নাতবাসী হন।
কামাল হোসেন শেখের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান (৯৭) শুক্রবার (৭আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটায় (রাত ২.৩০) বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পৌরসভার ডহরপাড়া গ্রামের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)। তিনি ৪ছেলে ও ৪মেয়ে রেখে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার ছিলেন।
এছাড়াও তিনি কোটালীপাড়া শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি শিক্ষা প্রসারে কাজ করেছেন। শেখ লুৎফর রহমানের মৃত্যুর পর কামাল হোসেন শেখের প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ ৮ঘন্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়।
কোটালীপাড়া থানার ওসি রিয়াদ মাহমুদ বলেন,কোটালীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল হোসেন শেখের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভূত্থানের ঘটনায় ঢাকা ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তার বাবার মৃত্যুতে তাকে ৮ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মুক্তি পেয়ে কামাল হোসেন শেখ কোটালীপাড়ায় এসে তার বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে শনিবার বাদ আসর পৌর ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুপ্তা হকের নেতৃত্বে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। পরে পৌর ভবন মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষ রাতে সাড়ে ১১ টার দিকে পৌর এলাকার কয়খা পঞ্চপল্লী কবরস্থানে মরহুমের মরদেহ দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের দুটি জানাযায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
এরআগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, বিভিন্ন রজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...