Logo Logo

মুকসুদপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ৭শ’ কলাগাছে বিষ প্রয়োগ, কৃষকের ৪ লাখ টাকার ক্ষতি


Splash Image

কলাবাগানে বসে অবাধে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় এক কৃষকের ৭ শতাধিক কলাগাছে বিষাক্ত ঘাসমারা কীটনাশক স্প্রে করে ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর পৌরসভার কমলাপুর গ্রামে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী কৃষক হুমায়ুন মোল্লার প্রায় ৪ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগানে গিয়ে কলার ছড়ি বেঁকে যাওয়া ও গাছে তীব্র পচন দেখতে পেয়ে বিষয়টি টের পান ওই চাষী। এ ঘটনায় তিনি জড়িতদের বিচার চেয়ে মুকসুদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী কলাচাষী হুমায়ুন মোল্লা জানান, প্রায় ছয় দিন আগে বাগানে পরিচর্যা করতে গিয়ে একই গ্রামের মেহেদী ও রবি নামের দুই তরুণকে বাগান থেকে বের হতে দেখেন। এ সময় তারা বাগানে বসে ইয়াবা সেবন করেছে বলে স্বীকার করে। তিনি তাদের ভবিষ্যতে বাগানে মাদক সেবন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তরুণরা বাগানের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর তিনি পেয়ারা ও মৌসুমি ফসল বিক্রি করতে ঢাকা চলে যান। বুধবার রাতে বাড়ি ফিরে বৃহস্পতিবার সকালে বাগানে গিয়ে দেখেন, বাগানের প্রায় ৭০০টি গাছের কলা বেঁকে বিকৃত হয়ে গেছে এবং কলার ভেতর, পাতা ও কাণ্ডে মারাত্মক পচন ধরেছে। মাদকসেবীরা তাদের হুমকির জের ধরেই বিষ স্প্রে করে এই ক্ষতিসাধন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, "বাগান পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্যারাকোয়াট বা গ্লাইফোসেট জাতীয় তীব্র আগাছানাশক (ঘাসমারা বিষ) পরিকল্পিতভাবে স্প্রে করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ৩-৪ দিন আগে এটি ছিটানো হয়েছিল। এতে ফলসহ গাছের কাণ্ডে মড়ক ধরেছে এবং অন্তত ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।" ক্ষতিগ্রস্ত বাগানকে রক্ষার জন্য কৃষককে জরুরি কৃষি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত মেহেদী ও রবির বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। খবর পেয়ে মুকসুদপুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সহায়তা করা হবে। অন্যদিকে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, "কৃষকের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বাদী মামলা করতে না চাওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...