বিজ্ঞাপন
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুরে পাশাপাশি অবস্থান করছে ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় দুটির সঙ্গে বিষখালী নদীর দূরত্ব এখন খুবই কম। জোয়ারের সময় নদীর পানি বিদ্যালয়ের মাঠে উঠে যায়। তীব্র স্রোত ও ঢেউ আছড়ে পড়ে বিদ্যালয় ভবনের কাছাকাছি। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দার বলেন, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয় ভবনের একেবারে কাছে চলে এসেছে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বেড়িবাঁধ না থাকায় শিশুরা নদীর দিকে চলে যায়। আবার জোয়ারের সময় বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। যেভাবে ভাঙন এগোচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবন নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। তিনি দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার ও হাসানুজ্জামান জানান, একসময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু নদীভাঙনে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। বর্তমানে সব শ্রেণি মিলিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। কয়েক দিন আগে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ একটি বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন যে অংশটুকু মাঠ অবশিষ্ট রয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেটিও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক শাহিন হাওলাদারসহ কয়েকজন জানান, বিষখালীর ভাঙনে ইতোমধ্যে এলাকার বহু মানুষ ভূমিহীন হয়েছেন। চলতি বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িঘর ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিদ্যালয় দুটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয় দুটির পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনাও বিষখালী নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...