বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে শিবচর উপজেলার নিলখী এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে তা ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তদন্ত চালিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত শাম্পা খাতুন নাটোর জেলার লালপুর থানার বেরিলাবাড়ি এলাকার ছামিরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড়মেহের এলাকার সাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে শাম্পার বিয়ে হয় এবং তাঁদের সংসারে এক বছরের শিশু আবিরের জন্ম হয়। একটি মামলায় স্বামী কারাগারে থাকা অবস্থায় শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকার রতন মোল্লার ছেলে ফারুক মোল্লার সাথে শাম্পার পরিচয় হয়। সেই সূত্রে ফারুকের বাড়িতে শাম্পাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একই সময়ে শাম্পার শিশুসন্তান আবিরকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজৈর এলাকা থেকে অভিযুক্ত ফারুকে গ্রেপ্তার করে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮। আটকের সময় আসামির কাছ থেকে ভিকটিম শাম্পার ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন, ওড়না ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ফারুক শিশু আবিরকে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজে নিয়ে নদীতে ফেলে হত্যা করার কথা স্বীকার করে। আসামির স্বীকারোক্তির পর থেকেই নদীতে নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে ঘটনার পাঁচ দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলো।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...