বিজ্ঞাপন
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শাওন আমিনের বিরুদ্ধে ডিবিতে একটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। মামলাটির নম্বর ৪১/২৪৪, তারিখ ২৪/০৭/২০২৬। এতে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২৫(২) ও ২৭ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আটোয়ারী থানায় শাওন আমিনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত তিনটি মামলার ওয়ারেন্ট মুলতবি রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সাংবাদিক জয় মহন্ত অলকের করা একটি প্রসিকিউশন মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে। ঢাকার একটি থানায় তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করার সময়ও তার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে ডিবি সূত্রে জানা যায়।
ডিবিতে তদন্তাধীন মামলার আসামি কুঞ্জমোহন পালকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে শাওন আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য সামনে আসে। কুঞ্জমোহন পাল আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে শাওন আমিনকে জড়িয়ে বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করেছেন।
জবানবন্দিতে কুঞ্জমোহন পাল দাবি করেন, শাওন আমিন তাকে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসংবলিত পোস্ট করাতেন। বিভিন্ন ব্যক্তির অশ্লীল ছবি পোস্ট করানোর অভিযোগও করেন তিনি। এসব কাজের বিনিময়ে শাওন আমিন তাকে টাকা দিতেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া একটি মেয়ের অশ্লীল ভিডিও শাওন আমিনের নির্দেশে কুঞ্জমোহন পালের মাধ্যমে পোস্ট করানো হয়েছিল বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।
কুঞ্জমোহন পাল আরও দাবি করেন, ‘ঠাকুরগাঁও আপডেট’ ফেসবুক পেজের মূল অ্যাডমিন শাওন আমিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুঞ্জমোহনকে পোস্ট লিখে দিলে শাওন আমিন সেগুলো ওই পেজে প্রকাশ করতেন। ভিডিও দেওয়া হলেও সেগুলো পেজে পোস্ট করা হতো। এসব ছবি ও ভিডিও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হতো বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিবি সূত্র আরও জানায়, শাওন আমিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসব পোস্ট করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করেছেন বা করছেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা এসব অভিযোগের সবগুলোই বর্তমানে তদন্তাধীন। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
ডিবি জানায়, শাওন আমিনকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আগে থেকেই বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের হালিশহর থানার সহযোগিতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে ঠাকুরগাঁও ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।
শাওন আমিনের আইনজীবী ইমরান হোসেন চৌধুরী জানান, অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে আদালত আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন শাওন আমিনের জামিনের জন্য আবেদন করা হবে। অপরদিকে পুলিশ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে। রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হবে কি না, তা শুনানির দিন জানা যাবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...