Logo Logo

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা : প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি ইরানের


Splash Image

ছবি : সংগৃহিত

ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নিষেধজ্ঞা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়ী।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে, তাহলে তাদের ফ্লাইট ও বিমানবন্দরগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

গত কাল বৃহস্পতিবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসিন রেজায়ী বলেছেন, “যদি প্রতিবেশি দেশগুলো ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে, সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চিত করে বলছি যে তাদের বিমানবন্দরগুলো আর কার্যকর থাকবে না। আমরা পদক্ষেপ নেবো।”

গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধাভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২১ সেপ্টেম্বর ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এ দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের বৈশ্বিক বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ দিন থেকে কোনো ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থার উড়োজাহাজ যদি বিদেশের কোনো বিমান বন্দরে অবতরণ করে— সেটি জ্বালানি পাবে না, ল্যান্ডিং পরিষেবা পাবে না এমনকি কোনো বিদেশি বিমান বন্দরে ইরানি কোনো বিমানের টিকিটও বিক্রি করা যাবে না।”

কোনো দেশ যদি এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করে, তাহলে সেই দেশকে কঠোর পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে হুমকিও দিয়েছেন বেসেন্ট। সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপরে তিনি বলেছেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে, তারা আমাদের অংশীদারিত্বের সুফল ভোগ করবে। আর যারা পাশে থাকবে না, তারা একটি ক্ষয়িষ্ণু শাসনের পরিণামের অংশীদার হবে।”

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের ফ্লাইট চলাচলে গুরুতর ব্যাঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রভাব ইতিমধ্যেই ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর ওপর পড়তে শুরু করেছে। ইরাক ও ওমানের সরকার ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেওয়ায় ইরান বাগদাদ ও মাস্কাটগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলোর গন্তব্য পরিবর্তন করে সেগুলোকে নাজাফে পাঠানো হতে পারে।

আঞ্চলিক অন্যান্য রুটেও ফ্লাইট চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেছে। ইরানের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা 'মাহান এয়ার' ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও মাস্কাটগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

তবে এই পরিস্থিতির প্রভাব সব ক্ষেত্রে সমান নয়; চীন এবং তুরস্কের কিছু গন্তব্যে ইরানি ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

এই অচলাবস্থা আঞ্চলিক বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাগুলোকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির মধ্যে তাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে; অন্যদিকে তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে যে, তাদের ফ্লাইটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...