বিজ্ঞাপন
ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের বিদায়কে তেহরান ও তার মিত্ররা ‘বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করলেও, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ২০২৪ সালেই চূড়ান্ত হয়েছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তই তার উত্তরসূরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাস্তবায়ন করছেন।
গত ১২ আগস্ট ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। আজ সেই নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকে ইসলামিক স্টেট বা আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযান সমাপ্তির পথে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। নির্ধারিত এই সময়সীমা চূড়ান্ত। ফলে আগামী ১ অক্টোবর ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে যাচ্ছে। ওই দিন থেকে দেশটিতে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না।
আরও জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির বৈঠকের ভিত্তিতেই মার্কিন সেনাদের ইরাক ছাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফর করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। ওই সফরের সময়ই জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। বুধবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক পরস্পরের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের প্রতি সম্মান জানাবে। পাশাপাশি অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
২০০৩ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই বছরের ১৯ মার্চ ইরাকে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। অভিযানের প্রায় নয় মাস পর গ্রেপ্তার হন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। প্রায় তিন বছর বিচার চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
শর্ত অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পরই ইরাক ছাড়ার কথা ছিল মার্কিন বাহিনীর। তবে তার মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটিতে উত্থান ঘটে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের। ফলে এই গোষ্ঠীকে নির্মূল করার লক্ষ্যে ইরাকে মার্কিন সেনা অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।
২০২০ সালের পর থেকে ইরাকে থাকা মার্কিন সেনাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছিল। সর্বশেষ দেশটির বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। আজ তাদের শেষ দলটি ইরাক ত্যাগ করছে।
ইরাকে ২৩ বছরের অবস্থানকালে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী গড়ে তুলতেও সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খাতে ওয়াশিংটন অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
মার্কিন সেনাদের বিদায়ে ইরাকের সাধারণ জনগণের অনেকেই আনন্দিত। তবে একই সঙ্গে অনেকের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনারা চলে গেলে ইরাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে এবং ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম নাও হতে পারে।
ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, “নিরাপত্তাক্ষেত্রে সৃষ্ট যে কোনো শূন্যতা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। গত দু’দশকে আমরা এ শিক্ষা পেয়েছি।”
সূত্র : রয়টার্স।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...