বিজ্ঞাপন
বুধবার সিলেটের খাদিমপাড়াস্থ FIVDB সেন্ট্রাল ট্রেনিং সেন্টার (CTC)-এ আয়োজিত এ সভায় প্রকল্পে অংশগ্রহণে আগ্রহী বিভিন্ন বেকার ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় তরুণদের সামনে RAISE প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম, অংশগ্রহণের সুযোগ, বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষানবিশি কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, তরুণদের আয় ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে RAISE প্রকল্পটি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৬ সালে অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে।
RAISE প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলো শিক্ষানবিশদের বাজারচাহিদাভিত্তিক কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। ঐতিহ্যবাহী ‘ওস্তাদ-শাগরেদ’ মডেলকে আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করে তরুণদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযুক্ত করার পাশাপাশি আগ্রহী ও যোগ্য তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগও সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এছাড়া তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতের উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি কাজ করছে। প্রকল্পের বর্তমান পর্যায়ে প্রত্যন্ত ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা—বিশেষ করে চর, হাওর, পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকার তরুণদের অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে দলিত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জনাব রুহেল কবির, সহযোগী নির্বাহী পরিচালক, FIVDB; জনাব আরিফুল ইসলাম, ফোকাল পার্সন; জনাব আব্দুর রব, ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর; জনাব নাবিলা নুজহাত হাই, ট্রেনিং এন্ড এমপ্লয়মেন্ট সাপোর্ট অফিসার; জনাব শাহ হিসাম আহমেদ, একাউন্টস এন্ড এমআইএস অফিসার—RAISE প্রকল্প এবং জনাব শুভাশীষ সেন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, রিজন-১, আইএফএসপি প্রকল্প। এছাড়াও FIVDB-র অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রকল্পে অংশগ্রহণে আগ্রহী তরুণ-তরুণীরা ও তাদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জনাব রুহেল কবির, সহযোগী নির্বাহী পরিচালক, FIVDB বলেন, “তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। RAISE প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা বাজারচাহিদাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজ শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে তারা নিজেদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে উঠতে পারবেন। আমরা আশা করি, কমিউনিটি পর্যায়ের এই আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও বেশি তরুণ-তরুণী প্রকল্পের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে এই সুযোগকে কাজে লাগাবেন।”
সভায় অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা প্রকল্পের বিভিন্ন ট্রেড, প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশি কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা নিজেদের পছন্দ, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, তরুণদের হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের সহায়তা যুক্ত করা গেলে তারা শুধু নিজেদের জীবিকা নিশ্চিত করতেই সক্ষম হবেন না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। এ লক্ষ্যেই RAISE প্রকল্প দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে।
কমিউনিটি আউটরিচ সভার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বেকার ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে RAISE প্রকল্পের কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগ্রহী তরুণদের প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পথ আরও সুগম হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা, প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে কমিউনিটি আউটরিচ সভাটি সম্পন্ন হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...