বিজ্ঞাপন
এদিকে আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে ২০২৭ সালে প্রকল্পটির মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মেগা প্রজেক্ট। এগুলো ‘মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট’, যার সুফল দেশের মোট অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পাবে। পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে এর কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটির দিকে আসে, দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জীবনযাপন করছেন।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে অনেক সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক করা হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া এ প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই তিস্তা প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে। ওই স্টাডির ভিত্তিতেই প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা হবে। এটি সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সবকিছু শেষ করে একই বছরে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সবাই বেশ উদগ্রীব। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ দিয়ে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন করে করা হয়।
তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বরের আগেই বাংলাদেশের নতুন চুক্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী যে, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা।
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বসবাস করেন, তারা বাংলাদেশেরই মানুষ। দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই তার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পটির স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিস্তার মতো মেগা প্রজেক্টের স্টাডি রাতারাতি কিংবা এক-দুই মাসে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে কাজটি শেষ করেননি। তাই বর্তমান সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...