বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানকালে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। চুক্তিটির লেনদেন সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড’ এনসিটি পরিচালনা করে আসছিল। গত বছরের ৬ জুলাই তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ৭ জুলাই থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগং ড্রাই ডক’ এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিল।
এনসিটিতে আন্তর্জাতিক মানের অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রথম শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় আন্তর্জাতিক বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের বিষয়ে ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ উদ্যোগটি পুনরুজ্জীবিত করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চূড়ান্ত অপারেটর হিসেবে বেছে নেয়। মাঝে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা এবং শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে প্রক্রিয়াটি কিছু সময়ের জন্য স্থবির হলেও বর্তমান সরকার নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি চূড়ান্ত করে।
২০০৭ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটিতে মোট পাঁচটি জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এই টার্মিনালে অবস্থিত। মূলত চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এই এনসিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
এদিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এনসিটি হস্তান্তর বা ইজারা দেওয়ার ধারাবাহিক বিরোধিতা করে আসছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি’। তারা বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক কর্মসূচিও পালন করেছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনায় আসার ফলে জাহাজের ‘টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’ এবং কনটেইনারের ‘ডুয়েল টাইম’ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। এতে স্থানীয় আমদানি-রপ্তানিকারকদের লজিস্টিকস খরচ কমবে, যার প্রত্যক্ষ সুফল পাবে দেশের তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলো।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...