Logo Logo

জুনিয়রকে গালিগালাজকে কেন্দ্র করে গোবিপ্রবিতে উত্তেজনা, মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থী


Splash Image

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও চরম উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পেরিয়ে শুক্রবার ভোর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সামনেই উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের লাঠিসোঁটা হাতে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অয়েজ জামান বসে ছিলেন। এ সময় বিভাগের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁরই বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর পরিবার তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন। বিষয়টি দেখে অয়েজের ছোট ভাই পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ জামান এগিয়ে এসে কারণ জানতে চাইলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর ও গলা চেপে ধরা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী জায়েদ জামান প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আইন বিভাগের ইমরান, জনি, সাইমুম, জয় শিকদার, মেহেদী, সাজিদ ও রাফিসহ বেশ কয়েকজন তাঁদের ওপর সরাসরি হামলা চালান। পরে অন্য এক শিক্ষার্থীর সহায়তায় তাঁদের একটি অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হলেও মেহেদী ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিপ্র নামের এক শিক্ষার্থী চালকের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদের আটকে রাখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে জড়ো হন এবং দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকরা পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনের প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে গেলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে চড়াও হন। আত্মরক্ষার্থে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও লাঠি হাতে প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমানসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, "তুচ্ছ অভ্যন্তরীণ বিষয়কে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। এমনকি প্রক্টর অফিসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপরও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।"

প্রক্টর আরও জোর দিয়ে বলেন, "পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাঁদের স্পষ্ট আশ্বস্ত করেছি—কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব ছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। আগামী সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...