বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম নয়া পাড়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই শিশুটির বাবা নাজমুল গা-ঢাকা দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম নয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা নাজমুলের দ্বিতীয় স্ত্রী টুনি বেগম। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, টুনি বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে তাঁকে ওই দুই বছরের কন্যাশিশুকে কোলে নিয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়কে ঘোরাফেরা করতে দেখেন প্রতিবেশীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে পিচ্ছিল রাস্তায় শিশুটিকে নিয়ে তিনি আছড়ে পড়ে যান।
পরবর্তী সময়ে সন্ধ্যার দিকে শিশুটির বাবা নাজমুল ঘরে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি প্রতিবেশীদের জানান যে, ঘরের বিছানায় কম্বল মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। তবে স্থানীয়দের বিষয়টি জানানোর পরপরই তিনি রহস্যজনকভাবে ঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। কোনো সদুত্তর না পেয়ে এবং বাবার এমন অস্বাভাবিক আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত ১০টার দিকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ এবং বিছানা থেকে কম্বলে মোড়ানো শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে।
তবে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক সময়, আঘাতের ধরন কিংবা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাস্তায় পড়ে গিয়ে অভ্যন্তরীণ আঘাতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক সহিংসতা বা নির্মমতা লুকিয়ে রয়েছে—তা নিয়ে এলাকায় তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকে শিশুটির বাবা নাজমুল কেন ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেলেন, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...