Logo Logo

গোপালগঞ্জে চায়না দুয়ারী জালের অবাধ ব্যবহারে ধ্বংসের মুখে দেশীয় মৎস্য সম্পদ


Splash Image

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের বুক চিরে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী মধুমতি লেক ও সংলগ্ন পাঁচুড়িয়া খালে প্রকাশ্যে চলছে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জালের ভয়াল তাণ্ডব।


বিজ্ঞাপন


দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা সবার চোখের সামনেই এই সর্বনাশা জাল দিয়ে নির্বিচারে শিকার করা হচ্ছে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ। সূক্ষ্ম বুননের এই মরণফাঁদে অবাধে উজাড় হচ্ছে রেনু-পোনা, যার ফলে শহরের প্রাণকেন্দ্রের পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচুড়িয়া খালের সঙ্গে মধুমতি লেকের সংযোগস্থল, জেলা খাদ্য গুদাম সংলগ্ন এলাকা এবং পাঁচুড়িয়া পৌর নিউ মার্কেট সংলগ্ন পানিতে একশ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি একের পর এক চায়না দুয়ারী জাল পেতে রেখেছে। শহর ঘেঁষে মানিকদাহ থেকে শুরু করে হরিদাসপুর পর্যন্ত বিস্তৃত লেকের দীর্ঘ অংশ এবং শাখা খালের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে নিষিদ্ধ নানা সরঞ্জামের সাহায্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আঁধারে তো বটেই, দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে বাঁশের খুঁটি ও দড়ির সঙ্গে বেঁধে এই জালগুলো পানির নিচে স্থায়ী ফাঁদ হিসেবে বসিয়ে রাখা হয়।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘চায়না দুয়ারী’ জালের ফাঁদ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ঘন হওয়ায় এতে কোনো ধরনের জলজ প্রাণীই রক্ষা পায় না। কয়েক মিলিমিটারের ডিম ও পোনা মাছ থেকে শুরু করে প্রজননক্ষম মা মাছ পর্যন্ত এই জালে আটকে পড়ে দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। উন্মুক্ত জলাশয়ে এ জাতীয় নিষিদ্ধ জালের অব্যাহত ব্যবহারে শোল, বোয়াল, টেংরা, পুটি, শিং ও কৈসহ বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছের বংশবৃদ্ধি পুরোপুরি থমকে যাচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্যান্য উপকারী জলজ কীটপতঙ্গ ও উদ্ভিদ।

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, শহরের গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলোতে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর তদারকির ঘাটতি স্পষ্ট। এই অসাধু চক্রকে এখনই কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে লেক ও খালের পানি সম্পূর্ণরূপে মৎস্যশূন্য মরুভূমিতে পরিণত হবে। জলজ পরিবেশ ও দেশীয় মাছের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত অভিযান ও নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করার পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শহরবাসী।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...