বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা আক্তার জানান, জমিজমা ও পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাঁর স্বামী আতাউর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্বামী কারাগারে থাকার সুযোগে একই এলাকার মৃত হাফিজুর রহমান মুন্সির ছেলে ও তাঁর চাচাতো দেবর মানিক মুন্সি (৪২) তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি গ্রাসের পাঁয়তারা শুরু করেন। সম্প্রতি তাঁদের বসতভিটায় থাকা বেশ কয়েকটি বড় আকৃতির ফলদ আমগাছ জোরপূর্বক বিক্রি করে দেন মানিক। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ঘটনার তাৎক্ষণিক বিবরণ দিয়ে ওই নারী আরও জানান, খবর পেয়ে তিনি টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু আইন ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে পরবর্তীতে অভিযুক্ত মানিক মুন্সি পুনরায় সেই গাছ কেটে নিয়ে যান। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এমন বেপরোয়া আচরণ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্তের অপরাধমূলক অতীত ও এলাকায় প্রভাব খাটানোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সালমা আক্তার বলেন, মানিক মুন্সি একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি এবং গোপালগঞ্জের আলোচিত বিএনপি নেতা দিদার হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি। সম্প্রতি ওই হত্যা মামলায় জামিনে কারাগার থেকে বের হয়েই তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে পরিবারে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এবং যেকোনো সময় তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কা করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় থানায় বারবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া ছাড়াও তিনি সরকারের জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একাধিকবার ফোন করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি এখনো কোনো ন্যায়বিচার পাননি। এমতাবস্থায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষপর্যায়ে ভুক্তভোগী সালমা আক্তার তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্পত্তি দখলের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে ভূমিদস্যু ও অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...