Logo Logo

নীলফামারীতে অবহেলা ও দখলদারিত্বে হারিয়ে যেতে বসেছে শরতের কাশফুল


Splash Image

শরতের আগমনী বার্তা মানেই শুভ্র সাদা কাশফুল আর নীল আকাশের মায়াবী মেলবন্ধন। একসময় শরতের শুরুতে নীলফামারীর নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল, বিল ও কাঁচা রাস্তার দুই ধারে বাতাসে দোল খেত কাশফুল। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা। তবে কালের বিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে জেলাজুড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে শরতের চিরচেনা সেই সৌন্দর্য। নদীতীরবর্তী চর দখল, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন ও নতুন আবাসন গড়ে ওঠায় কমে যাচ্ছে কাশবনের বিস্তৃতি।


বিজ্ঞাপন


শরতের এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য হারিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া না হলে একসময় নীলফামারী থেকে কাশবনের ঐতিহ্য প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।

সদর উপজেলার বাসিন্দা সৈয়দ আলী (৫৯) আক্ষেপ করে বলেন, “আগে শরতের সময় বুড়িখোড়া নদীর কূল ঘেঁষে কিংবা বিলের ধারে মাইলের পর মাইল ধবধবে সাদা কাশফুল দেখা যেত। নদীর বাতাসে কাশফুলের দোল খাওয়া দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত। কিন্তু এখন নদীর ধারে নানা স্থাপনা গড়ে ওঠায় কাশবন প্রায় শেষ হয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম হয়তো আর কাশফুলের আসল রূপ দেখতেই পাবে না।”

সরেজমিনে কথা হয় শিক্ষার্থী ও তরুণ দর্শনার্থী রাকিব ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য জেলার কাশফুলের ছবি দেখে তাঁরাও নীলফামারীর বিভিন্ন স্থানে ছবি তুলতে যান। কিন্তু আগের মতো বিস্তীর্ণ কাশবন এখন আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। দু-একটি জায়গায় সামান্য কাশফুল ফুটলেও সেখানে দর্শনার্থীদের কেউ কেউ ফুল ছিঁড়ে বা মাড়িয়ে সৌন্দর্য নষ্ট করেন।

রাকিব ইসলাম বলেন, “প্রকৃতির এই সৌন্দর্য রক্ষা করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা খুব জরুরি।”

স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও সাবেক শিক্ষক গোলাম রব্বানী বলেন, কাশফুল শুধু শরতের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, নদীর মাটি ধরে রাখা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। নদী ও অববাহিকায় অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন, নদীর চর দখল এবং প্রাকৃতিক উৎস ধ্বংসের কারণে কাশবন বিলুপ্তির পথে।

তিনি বলেন, কাশবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোকে যথাযথ সংরক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সচেতন নীলফামারীবাসীর মতে, শরতের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কাশবন সংরক্ষণ, নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল রক্ষা এবং নির্বিচারে ফুল ছেঁড়া ও গাছপালা নষ্ট করা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।

প্রকৃতির অনন্য এই সৌন্দর্য রক্ষায় এখনই উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নীলফামারীর শরতের কাশবন কেবল স্মৃতিচারণের বিষয় হয়ে থেকে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...