বিজ্ঞাপন
আমাদের সমাজে রক্তদান নিয়ে এমন কিছু কুসংস্কার ও অমূলক ভীতি কাজ করে, যা সত্যিই দুঃখজনক। একটি বাস্তব উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়—অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের কোনো মেয়ের সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অন্য কোনো অপরিচিত ছেলের শরীর থেকে রক্ত নিতে পরিবারের সদস্যরা দ্বিধাবোধ করেন না। অথচ, ঠিক একই পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য বা সন্তানকে যখন অন্য কারও জন্য রক্ত দিতে বলা হয়, তখন মা-বাবা বা অভিভাবকরা নানা অজুহাতে নিজের ছেলেকে রক্ত দিতে নিষেধ করেন। রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়বে—এমন এক অদ্ভুত ও বিজ্ঞানহীন ভীতি গ্রাস করে রেখেছে আমাদের সমাজকে।
নিজের স্বার্থে অন্যের রক্ত গ্রহণে বাধা নেই, কিন্তু অন্যের প্রয়োজনে রক্ত দিতে গেলেই যত বিপত্তি! এই দ্বিচারিতা ও সংকীর্ণ মানসিকতাই প্রমাণ করে যে, আমরা সামাজিকভাবে রক্তদানের গুরুত্ব কতখানি এড়িয়ে চলছি। রক্ত দিলে শরীরের কোনো ক্ষতি তো হয়ই না, বরং নিয়মিত রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী—এই সাধারণ বিজ্ঞানসম্মত সত্যটুকু এখনো আমাদের সিংহভাগ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।
সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো উদ্যোগের অনুপস্থিতিতেও দেশে রক্তের এই ঘাটতি পূরণে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন রক্তদাতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা পাড়া-মহল্লার একদল উদ্যমী তরুণ-তরুণী নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে, দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিনামূল্যে রক্তদাতার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। মুমূর্ষু রোগীর স্বজনদের কান্না থামাতে তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কেবল কয়েকটি সংগঠনের একক প্রচেষ্টায় বছরের ১০ লাখ ইউনিটের বিশাল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়, যদি না সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে।
বছরে ১০ লাখ ইউনিটের বিশাল চাহিদা পূরণ এবং অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের ঝুঁকি কমাতে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। আর এজন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন এবং সচেতনতা। পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে গণমাধ্যম ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে রক্তদানের উপকারিতা নিয়ে নিয়মিত প্রচার চালানো দরকার। তরুণ প্রজন্মকে এই মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আসুন, মনের ভেতরের সব কুসংস্কার ও অমূলক ভয় দূর করি। রক্তদান কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একটি জীবন বাঁচানোর শ্রেষ্ঠ মানবিক দায়িত্ব। আপনার দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত দিতে পারে একটি পরিবারকে নতুন করে বাঁচার আলো।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...