বিজ্ঞাপন
শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এমনই চাঞ্চল্যকর চিত্র। উপজেলার পুরাতন ফেরিঘাট (কাওড়াকান্দি) থেকে মূল চ্যানেল ধরে চরজানাজাত প্রবেশের মুখেই চোখে পড়ে অবাধে মা ইলিশ শিকারের দৃশ্য। শত শত ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে জেলেরা জাল ফেলে নির্বিঘ্নে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরছেন। নদী থেকে মাছ তুলে সরাসরি চরের ওপর স্তূপ করে চলছে দরদাম।
নদীর পাড়ে পৌঁছাতেই চোখে পড়ে বিপুল মানুষের আনাগোনা। দূরদূরান্ত থেকে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ক্রেতারা আসছেন এই গোপন হাটে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অল্প দামে টাটকা ইলিশ কিনতে কেউ বাজারের বড় ব্যাগ, আবার কেউ আস্ত প্লাস্টিকের বস্তা ভরে মাছ কিনে নিয়ে ফিরছেন। শত শত নৌকা দিয়ে মাছ ধরা এবং চরে এনে প্রকাশ্যে বিক্রির কারণে পুরো এলাকাটি যেন একটি পূর্ণাঙ্গ মাছ বাজারে রূপ নিয়েছে।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর আশ্বিনের পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকার নির্দিষ্ট মেয়াদে সাগর ও নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। এই সময়ে নদীগুলোতে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ে। কিন্তু পদ্মা নদীর এই অংশে যেভাবে শত শত নৌকা দিয়ে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে, তাতে ইলিশের বংশবৃদ্ধি ও উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে। নৌকার মাঝিরা যেমন আইন মানছে না, ক্রেতারাও হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার টহল না থাকার সুযোগ নিচ্ছে তারা। তবে শুধু অভিযান চালালে হবে না; নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের সরকারিভাবে যে খাদ্যসহায়তা বা চাল দেওয়া হয়, তার সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিকল্প সহায়তা বাড়ানো না হলে জেলেদের এই পথ থেকে ফেরানো কঠিন হবে।”
পদ্মা নদীর জীববৈচিত্র্য ও দেশের রূপালি ইলিশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে চরজানাজাতের এই অস্থায়ী হাটে যৌথ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পদ্মার মূল চ্যানেলগুলোতে দিন-রাত সার্বক্ষণিক নৌপুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...